বান্দরবানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় বেড়েছে ধসের শঙ্কা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

বান্দরবানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় বেড়েছে ধসের শঙ্কা

বান্দরবানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত, অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটায় বেড়েছে ধসের শঙ্কা
ছবি সংগৃহীত।


বান্দরবানে গত কয়েক দিনের মতো আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর পানি। এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারীদের দিন কাটছে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যে


বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলা সদরের লাঙ্গিপাড়া, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, সাইঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি পাহাড় অধ্যুষিত এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল ঢাকা পোস্টকে জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকবে। পাহাড়-ঘেঁষা এলাকাগুলোর বাসিন্দারা বেশ ঝুঁকিতে আছেন।
বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে অন্য উপজেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক আছে। তবে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তার ওপর মাটি চলে আসায় যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সড়কে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রুমা উপজেলার ২নং সদর ইউনিয়নের আশ্রম পাড়া এলাকায় একটি পাহাড় ধসে পড়েছে। গভীর রাতে টানা বৃষ্টিতে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে পাহাড় ধসে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা বেড়েছে জেলা সদরসহ লামা, থানচি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইতোমধ্যে জেলার সাতটি উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্ব স্ব স্থানে নজরদারি বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ পাইনি। তবে বেশ কয়েকটি স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে, যা সংস্কারে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়-অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
 




লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু

লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামায় মুরগীর খাদ্য বোঝাই পিকআপ গাড়ি উল্টে  চালক মোস্তফা কামাল নিহত হয়েছেন। 

বুধবার দিনগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কের লাইনঝিরি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।  

নিহত গাড়ি চালক মোস্তফা কামাল কক্সবাজারের চকরিয়া পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা পাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল হকের ছেলে।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুরগীর খাদ্য বোঝাই করে ফ্রেশ কোম্পানির একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ড ১৪-৭৬২৬) চকরিয়া উপজেলা থেকে লামা উপজেলায় যাচ্ছিল। এসময় গাড়িটি সড়কের পশ্চিম লাইনঝিরি এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।  

খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দূর্ঘটনায় পতিত গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক চিকিৎসক চালক মোস্তফা কামালকে মৃত ঘোষণা করেন।  

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।  
 




বাঁশখালীতে জনকন্ঠ সংবাদদাতা গ্রেপ্তার

বাঁশখালীতে জনকন্ঠ সংবাদদাতা গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর হামলা ও চাম্বলে বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার আসামি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার বাঁশখালী সংবাদদাতা জোবাইর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব চাম্বল নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। সে চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব চাম্বল এলাকার নুরুল ইসলাম লেডুর ছেলে। জোবাইর চৌধুরী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান জানতে পেরে এসআই গোলাম ছরওয়ারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ৩টি মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। 
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জোবাইর চৌধুরীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।




সব ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে : ফরহাদ মজহার

সব ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে : ফরহাদ মজহার
ছবি সংগৃহীত।


কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, অনেক ধরনের ফ্যাসিবাদ আছে, ধর্ম নিরপেক্ষতার ফ্যাসিবাদ, ধর্মান্ধতার ফ্যাসিবাদ। সব ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের আগ্রাসন থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে জনগণের নিজস্ব গঠনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে


শনিবার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রথম প্রয়োজন একটি গণমুখী গঠনতন্ত্র। জনগণকে বোঝাতে হবে গঠনতন্ত্র কী এবং কেন তা প্রয়োজন। যাতে দেশে আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে-সেই লক্ষ্যে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
চট্টগ্রামের গুরুত্ব ও বন্দরের নিরাপত্তা তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, চট্টগ্রাম হলো দেশের অর্থনীতির হৃদয়, যেখানে বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। এ শহরের ক্ষতি মানে দেশের মারাত্মক ক্ষতি। এ কারণেই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। বন্দরকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কাস্টমস থেকে আলাদা করতে হবে। দুর্নীতি করার জন্য পণ্য দিনের পর দিন বন্দরে রেখে দেয় কাস্টমস কর্মকর্তারা। খেয়াল রাখতে হবে বন্দর যাতে বিদেশি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। হাটহাজারীর মতো অঞ্চলে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থিত, যেখানে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় এবং সামাজিক আচারে অংশ নিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি


ফরহাদ মজহার বলেন, গঠনতন্ত্র ও সংবিধান এক নয়। সংবিধান একটি আইনি কাঠামো মাত্র, যেখানে গঠনতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্র ও সংগঠন পরিচালনার মূল দর্শন। ড. কামাল হোসেন সংবিধানকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকার সমাবেশের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, আইডিএল (ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লিগ) বিলুপ্ত করে জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে পুনরায় আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক দুরদর্শিতার ঘাটতি প্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নাম পরিবর্তন করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল হক, অধ্যাপক আর রাজী ও সহকারী অধ্যাপক সাইমা আলম।